এবার কাটাখালি গ্রামে যমুনার তীব্র ভাঙন, দিশেহারা গ্রামবাসী

গত অক্টোবরে যমুনার তীব্র ভাঙন দেখা দেয় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়ার চর গ্রামে। এতে বিলীন হয় প্রায় চারশতাধিক স্থাপনা। সেই ভাঙনের রেশ না কটতেই এবার তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে ইসলামপুরের কাটাখালী গ্রাম। গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদী পাড়ে বসবাসকারী প্রায় শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন ধরে জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা নদীর শাখা কাটাখালি নদীতে হঠাৎ তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের ডেবরাই প্যাচ কাটাখালি গ্রামে গত কয়েকদিনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
অসময়ে ওই অংশের প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের। ভাঙনে ঘর বাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, জীবিকার অবলম্বন ফসলি জমি। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
চিনাডুলী গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক বলেন, ভাঙনে আমার তিন বিঘা জমি আর বাড়ির অর্ধেক নদীতে চলে গেছে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, সবই নদীতে মিলিয়ে যাবে।
শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরই ভাঙনের ভয় নিয়ে থাকতে হয়। এবার তো অসময়ে হঠাৎ নদী ভাঙতে শুরু করেছে আমরা চাই ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সাকিব বলেন, হঠাৎ করেই এই নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।
চিনাডুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জানান, ভাঙনের খবর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। আমরা ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ভাঙনের বিষয়ে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



