বিজ্ঞাপন
বিশ্ব

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে হঠাৎ জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক: ট্রাম্পের পদক্ষেপে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা–সংকট ঘিরে হঠাৎ তাঁর শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে সোমবার ওভাল অফিসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। এমন সময় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন তাঁর প্রতিপক্ষ নিকোলা মাদুরো ‘দাসত্বের শান্তি’ প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানান। ফলে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ক্যারিবীয় সাগরে বড় আকারের নৌবহর মোতায়েন করেছে এবং মাদকবিরোধী অভিযানের নাম করে সন্দেহভাজন নৌযানে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা এড়িয়ে চলার জন্য সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে তিনি বৈঠকের বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। ভেনেজুয়েলায় সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের সামনে “সব ধরনের বিকল্প” খোলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মাদুরোর জবাব: ‘উপনিবেশের শান্তি নয়’

কারাকাসে এক গণসমাবেশে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সমতার ভিত্তিতে শান্তি চায়—দাসত্ব বা উপনিবেশিক শান্তি নয়। সমর্থকদের সঙ্গে মঞ্চে নাচতে নাচতেই তিনি এ বার্তা দেন।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ারসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। ওয়াশিংটন দাবি করছে, এ অভিযান মাদকচক্র দমনের জন্য। তবে কারাকাসের বিশ্বাস, এর প্রকৃত লক্ষ্য সরকার পরিবর্তন।

ট্রাম্প–মাদুরো ফোনালাপ

ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। যদিও আলাপের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, দুজনের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক এবং মাদুরো ক্ষমতা ছাড়লে সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাবও আলোচনায় ছিল।

রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়াইন মুলিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাদুরোকে রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ দিতে পারে।

বিমান হামলা ও অভিযুক্ত ‘কার্টেল’

মার্কিন কর্তৃপক্ষ বহুদিন ধরেই মাদুরোকে কাল্পনিক ‘কার্টেল অব দ্য সানস’–এর প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে পাঁচ লাখ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছে। তবে ভেনেজুয়েলা ও তার মিত্ররা এমন কোনো সংগঠনের অস্তিত্বই অস্বীকার করছে। এ ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্র এখনো গত বছরের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোকে বৈধ বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button