নান্দাইলে পড়ে আছে ৭ কোটি টাকার সেতু, নেই সংযোগ সড়ক

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারের পাশে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতুর নির্মাণ শেষ হয় ২০২২ সালে। নৌপথ ঠিক রাখার জন্য সমতল ভূমি থেকে বেশ উঁচু করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ না করায় সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। ফলে প্রায় তিন বছরের অধিক সময় ধরে সেতুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্ষাকালে এই নদীপথ দিয়ে সুদূর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা থেকে বড় বড় কার্গো জাহাজ ভরে পাথর আমদানি করে থাকেন তারেরঘাট বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী।
নরসুন্দা নদী টুইটুম্বুর থাকলেও যাতে পাথরভর্তি জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়, সে কারণে সেতুটি সমতল ভূমি থেকে প্রায় ১০ ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ২০২২ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। কিন্তু নির্মাণের পর সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে মূল্যবান সেতুটি জনগণের কোনো কাজে লাগছে না।
নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যায়নি। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এই সেতুর দুই পাশে সড়ক নির্মাণ করতে হলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।
জানা যায়, সেতু নির্মাণের আগে নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা কালীগঞ্জ বাজারে আসতেন নৌকায় চড়ে। কোনো কোনো বছর চাঁদা উঠিয়ে নদীর ওপর সাঁকো নির্মাণ করা হতো। অতীতে নদী পারাপারের সময় নৌকাডুবি অথবা সাঁকো পারাপারের সময় নদীতে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ফলে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘সেতুর পূর্বপাড়ে রয়েছে বাহাদুরপুর, চংভাদেরা, নরেন্দ্রপুর, টেকপাড়াসহ ১০-১২টি গ্রাম। পশ্চিমপাড়ে এ অঞ্চলের বড় ব্যবসাকেন্দ্র কালীগঞ্জ বাজার। বুঝতেই পারছেন, সেতুটি আমাদের কত প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আবদুল মালেক বিশ্বাস বলেন, ‘সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। জমি অধিগ্রহণ ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের একটি প্রস্তাব জেলা নির্বাহী প্রকৌশল অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। প্রস্তাবটি অনুমোদন হওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



