কুড়িগ্রামে তালাবদ্ধ ঘরে পড়ে ছিল স্ত্রীর মরদেহ, স্বামী নিখোঁজ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ঘরের ভেতর থেকে মহিমা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার স্বামী বাবলু মিয়া নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের দিগদারি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহিমা বেগম ওই গ্রামের বাবলু মিয়ার স্ত্রী।
পুলিশ ও পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাবলু মিয়া স্ত্রী মহিমা বেগম, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে আসেন তারা। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও তারা যাননি। অন্যান্য দিনের মতো রাতের খাবার খেয়ে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন।
সোমবার ভোরে প্রথমে ঘুম থেকে ওঠেন বাবলু মিয়ার মা সুফিয়া বেগম। ছেলে ও পুত্রবধূকে ডাকতে গিয়ে তিনি দেখেন, তাদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে আটকানো। পরে লক্ষ্য করেন, বাড়ির সব কটি ঘরের দরজাই একইভাবে বন্ধ। বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার শুরু করলে বাড়ির অন্যরা জেগে ওঠেন। তবে দরজা বন্ধ থাকায় কেউ বাইরে বের হতে পারছিলেন না।
একপর্যায়ে সুফিয়া বেগম ছোট নাতি মেহেদী হাসানের ঘরের ছিটকিনি খুলে দেন। মেহেদী বাইরে বের হয়ে বাবার ঘরের দরজা খুলতেই বিছানার ওপর মায়ের নিথর দেহ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পাশে একটি ধারালো ছুরি পড়ে ছিল। সেই সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে ডাকাডাকি করলেও বাবলু মিয়াকে কোথাও পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।



