বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ

রোগীকে হাসপাতালে নিতে হয় খাটিয়া করে, বেহাল সড়কে কচুগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের খুলনা গ্রামে একটি সড়কে কচুগাছ রোপন করে সংস্কার না হওয়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা বলছেন, সড়কটির অবস্থা এতোটাই বেহাল যে, গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে এলাকায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে মরদেহ পরিবহনের খাটিয়া করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে বেহাল এই সড়কে জুতা হাতে চলাফেরা করেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় স্থানীয় বাসিন্দা ছাদেম মোল্লার বাড়ি থেকে টেকেরহাট আক্কাস হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কচুগাছ রোপন করে অভিনব প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে খানাখন্দ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সড়কটি পানি কাঁদায় একাকার হয়ে থাকে। আর এখন শুকনো মৌসুমে চললেও সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। প্রায় শতাধিক পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র এই সড়কটি এতটাই বেহাল যে, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জুতা হাতে হেটে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে ওই সড়কে একেবারেই গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে হয় মসজিদের মরদেহ বহনের খাটিয়ায় করে।

স্থানীয় ঢালিবাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ রাসেল খান বলেন, বর্ষা মৌসুমে আমি নিজেই অনেকে রোগীকে খাটিয়া করে হাসপাতালে নিতে সাহায্যে করেছি। সড়কটির অবস্থা অনেক বেহাল।

খুলনা গ্রামের বাসিন্দা মো. আলামীন হাওলাদার বলেন, সড়কের এমন অবস্থার কারণেই আমরা আজ কচুগাছ রোপন করেছি। বছরের পর বছর সড়ক সংস্কার না একটি লজ্জার বিষয়। বর্ষার সময়ে পানি ও কাঁদা, এখন শুখনো মৌসুমেও চলাচল করা যায় না। এখন যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে সামনে বর্ষায় আমাদের কষ্টের সীমা থাকবে না।

আরেক বাসিন্দা মো. ছামেদ মোল্লা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পরিবার নিয়ে শহরে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। বাড়ি নির্মাণ করলেও সড়কের কারণে মালামালসহ পরিবহনের কয়েকগুণ বেশি খরচ পড়ছে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়াও সমস্যা হয় তাই বাধ্য হয়ে নিজ বাড়ি থাকতেও সেটা ছেড়ে অন্য এলাকায় ভাড়া থাকতে হচ্ছে।

নাচনমহল ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শাহ আল খোকন বলেন, খুলনা গ্রামের সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমি অবগত আছি। সড়কের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button