মাদকাসক্ত কেন্দ্রে সকালে যুবকের মৃত্যু, দুপুরে ভাঙচুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার একটি মাদকাসক্ত কেন্দ্রে বেধড়ক পিটুনিতে রাজ্জাক মাতুব্বর নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে ভাঙচুর চালিয়েছেন কেন্দ্রে ভর্তি থাকা মাদকাসক্ত রোগীরা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পৌরসভার নওপাড়া গ্ৰামে ‘আলোর দিশা’ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাজ্জাক পৌরসভার হাসামদিয়া গ্ৰামের সামাদ মাতুব্বরের ছেলে।
নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাজ্জাক কিছুটা মাদকাসক্ত ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে রাজ্জাক মাতুব্বরকে সেখানে ভর্তি করানো হয়। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে মাদকাসক্ত কেন্দ্র থেকে রাজ্জাকের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়, সে কিছুটা অসুস্থ। পরে ওই কেন্দ্র থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর কেন্দ্রের মালিক মিজানুর রহমানসহ সেখানে কর্মরত লোকজন কেন্দ্রের বাইরে তালা লাগিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান।
এরপর দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করার সময় নিরাময় কেন্দ্রের ভেতরে আটকে থাকা ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী দরজা ভেঙে বেরিয়ে আসে এবং কেন্দ্রের ভেতরে ভাঙচুর চালায়। সর্বশেষ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
নিহত রাজ্জাক মাতুব্বরের স্বজনদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার রাতে রাজ্জাক মাতুব্বরকে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে তাদের সংবাদ দেওয়া হয় রাজ্জাক অসুস্থ। পরে ভাঙ্গা হাসপাতালে রাজ্জাকের মরদেহ দেখতে পান তারা।
ভাঙ্গা থানার ওসি আব্দুল আলীম জানান, ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা উদ্ধারে গেলে ভেতরে থাকা প্রায় অর্ধশতাদিক মাদকাসক্ত রোগী ভেতর থেকে দরজা ভেঙে বেরিয়ে এসে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশের পাশাপাশি সেনা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহতের শরীরে বেশ কিছু দাগ রয়েছে এবং নাক কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মর্গে প্রেরণ করে হয়েছে। তাছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকজন মাদকাসক্ত রোগীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের উপপরিচালক শিরিন আক্তার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে হেফাজতে নেওয়া ৫১ জন রোগীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা মাদক নিরাময় কেন্দ্রের উপপরিচালক শিরিন আক্তার।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত কেন্দ্রটি সিলগালা করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা ৫১ জন রোগীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌঁছালে তদের হস্তান্তর করা হবে।



