বিজ্ঞাপন
বিশ্ব

পাকিস্তানে কোয়েটাসহ ১২ শহরে হামলা, দুই দিনে ১০৮ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর

পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করেছে যে, কোয়েটাসহ বালুচিস্তানের বারটি শহরে চালানো হামলা ও পাল্টা অভিযানে অন্তত ৩৭ জন ‘জঙ্গি’ এবং ১০ জন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। যদিও দেশটির সেনাবাহিনীর দাবি শনিবার পাল্টা অভিযানে নিহত ‘জঙ্গির’ সংখ্যা ৬৭ জন।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রগুলোর মতে, গতকাল শাবান ও পাঞ্জগুরে তাদের অভিযানে আরও ৪১ জন নিহত হয়েছে এবং এর ফলে দুই দিনে মোট ১০৮ জন নিহত হলো বলে বিবিসি উর্দুর খবরে বলা হয়েছে।

বিবিসি যে তথ্য পেয়েছে সে অনুযায়ী, শনিবারের হামলাগুলোয় ১৮ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছে, তবে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেনি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য মতে, খারানে মালাজাই ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান মীর শাহিদ গুলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় শাহিদ গুলসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ সময় তার বাড়ি ও গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, খুজদারের একটি পরিবারের ১১ জন সদস্য নিহত হয়েছে। এর মধ্যে তিন জন নারী ও তিনটি শিশু ছিল।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাজধানী কোয়েটাসহ অনেকগুলো শহরে সন্ত্রাসী হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। কোয়েটা ছাড়াও মাসতুং, পাসনি, গোয়াদার, খারান, নশকি ও মাখ শহরে হামলা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু কর্মকর্তা পর্যায়ে জানানো হয়নি।

বিবিসি সংবাদদাতা মুহাম্মদ কাজিম জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ছয়টার দিকে কোয়েটায় হামলা শুরু হয়েছিল। এ সময় সন্ত্রাসীরা রেড জোনের কাছে সারিয়াব সড়ক ও হাজারগানজি থেকে ইধি চক এলাকায় হামলা করে।

অন্যদিকে মাসতুং কারাগারে হামলার ঘটনায় অন্তত ২৭ জন বন্দি জেল থেকে পালিয়ে গেছে।

এছাড়া হামলার সময় নুশকিতে ডেপুটি কমিশনারের বাসভবন থেকে জিম্মিদের তুলে নেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

একজন নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী বালুচিস্তানের পাসনি জেলায় ম্যারিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সি অফিসে হামলা করেছে। তবে সেখানে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি।

নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা এটিকে তাদের ‘অপারেশন হিরো’র দ্বিতীয় ধাপ বলে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টেও এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তার দায় স্বীকার করেছিল।

কোয়েটায় হামলা একটি বার্তা

বালুচিস্তানের বিভিন্ন শহরে এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা একেবারেই নতুন কিছু নয়। সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রায়শই সেখানে পুলিশ, সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভবনগুলোসহ বিভিন্ন জায়গায় আত্মঘাতী হামলা চালায়।

তবে এই প্রথমবারের মতো বালুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার ভেতরে এমন হামলা সংঘটিত হয়েছে।

খুব ভোরের দিকে কোয়েটায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর পর শহরের রেড জোন সিল বা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

সাধারণভাবে কোয়েটাকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ শহর হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। শহরকে নিরাপদ রাখতে চারপাশে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। শহরের ভেতরেও বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্ট রয়েছে।

কোয়েটার ভেতরে সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো কি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে নাকি এটি একটি গোয়েন্দা ব্যর্থতা- সেই আলোচনা তৈরি হচ্ছে।

ইসলামাবাদের কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে যুক্ত মুহাম্মদ শোয়াইব বলেছেন, পাকিস্তানের শহরগুলো এতটাই বিস্তৃত যে, এ ধরনের ‘ব্যর্থতা’ যে কোনো জায়গায় ঘটতে পারে, এমনকি ইসলামাবাদেও।

তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বিশ্বাস, যে দ্রুততার সঙ্গে হামলাকারীদের হত্যা করা হয়েছে, তা প্রমাণ করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিল।

‘যে গতিতে ভিডিও ও ছবিগুলো প্রকাশ পেয়েছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। মনে হচ্ছে, তারা আগের হামলাগুলো থেকে কিছু শিক্ষা নিয়ে আরও হামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।’

যুক্ত মুহাম্মদ শোয়াইব অবশ্য বলছেন, এই প্রথমবারের মতো প্রাদেশিক রাজধানীর ভেতরে এ ধরনের হামলা হয়েছে, যা একটি বড় ঘটনা।

তিনি বলেন, ‘তাদের কোয়েটায় আসাটাই একটি বড় বার্তা। তারা এই বার্তা দিয়েছে যে, আমরা চাইলে যে কোনো জায়গায় যেতে পারি। মানুষ এমনটা আশা করেনি। কারণ কোয়েটার নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী বলে মনে করা হয়।’

তার মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোয় বিভিন্ন শহরে যেসব স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করলে এটাই স্পষ্ট হয় যে প্রতিটি জেলায় প্রধান সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থার বেশিরভাগ অফিস ও ভবনই টার্গেট করা হয়েছে।

তার বিশ্বাস, বালুচিস্তানের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জটি হলো রাজনৈতিক। “আপনাকে হৃদয় ও মন জয় করতে হবে। শুধু লড়াই নয়। লড়াই হওয়া উচিত চূড়ান্ত পদক্ষেপ,” বলেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button