বিজ্ঞাপন
বিশ্ব

গাজায় দ্বিতীয় দিনের মতো ভারী বৃষ্টিপাত, শত শত পরিবারের তাঁবু প্লাবিত

শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে দ্বিতীয় দিলের মতো ভারী বৃষ্টিপাতের কবলে পড়েছে গাজা উপত্যকা। এ অবস্থায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়কেন্দ্রে শত শত তাঁবু প্লাবিত হয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, গতকাল ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিপাতের ফলে তাঁবুগুলো ডুবে যায়। এর ফলে ইসরায়েলের দুই বছরের গণহত্যার কারণে ইতোমধ্যেই বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।

6গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের শত শত তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন

গাজার সিভিল ডিফেন্স বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণের রাফাহতে কয়েক ডজন তাঁবু সম্পূর্ণরূপে ডুবে গেছে।

সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল সতর্ক করে বলেছেন, অঞ্চলজুড়ে বাস্তুচ্যুত শিবিরে বসবাসকারী ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি পরিবার ঠান্ডা আবহাওয়া এবং জীর্ণ তাঁবুতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ঝড়ের প্রকোপ অব্যাহত থাকলে, বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য কোনো অস্থায়ী আশ্রয়স্থল না থাকলে, মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এর আগে গত মঙ্গলবার গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস সতর্ক করে দিয়েছিল, একটি মেরু নিম্নচাপ বুধবার থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অঞ্চলজুড়ে প্রভাব ফেলবে। এটি লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলবে।

3গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের শত শত তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ইসরায়েলের যুদ্ধে বেঁচে যাওয়াদের আবাসস্থলে হাজার হাজার তাঁবু প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে বিছানা, পোশাক ও খাদ্য ভিজে গেছে। শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে উষ্ণতা বা আশ্রয় ছাড়া ঠান্ডার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

মিডিয়া অফিসের পূর্ববর্তী তথ্য অনুসারে, দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েল অবকাঠামো ধ্বংস করে ফেলার পর ফিলিস্তিনিদের সবচেয়ে মৌলিক আশ্রয়ের চাহিদা মেটাতে প্রায় ৩ লাখ তাঁবু এবং প্রিফেব্রিকেটেড আবাসন ইউনিটের প্রয়োজন।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি যুদ্ধের ফলে গাজা পুনর্গঠনের খরচ প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই আগ্রাসনে ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে এই হামলা বন্ধ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button