নওগাঁয় ২৩ গ্রামের ‘দুঃখ’ রক্তদহ বিল, আশার কথা শোনালো বিএমডিএ

নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ বিঘা আয়তনের রক্তদহ বিল। বিলটিকে ঘিরে রয়েছে ২৩টি গ্রাম। একসময় এটিকে ঘিরেই সেখানকার মানুষের জীবিকার চাকা ঘুরলেও সাম্প্রতিক সময়ে জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণে বিলে ফসল উৎপাদন ও প্রাকৃতিক উপায়ে বিস্তার লাভ করা মাছের আধিক্য কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে বিলটিকে ঘিরে রাখা ২৩টি গ্রামের ৭ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হলে বিলটি ঘিরে ফসল উৎপাদনসহ নানা উপায়ে কোটি কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পুনঃখনন হলে এই বিলের জমিতেই বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। তাই বিলটি দ্রুত পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ‘দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না করায় সরকার এই সম্পদ থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। পুন:খনন করা হলে বিলের জমিতে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া ফসলের পাশাপাশি মাছেরও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। বিলের চারপাশের হাজার হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবনচিত্র পাল্টে যাবে। পাল্টে যাবে এই অঞ্চলের দৃশ্যপট।’
স্থানীয়দের এই দাবির প্রেক্ষিতে নওগাঁ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) শুনিয়েছে আশার কথা। সংস্থাটি বলছে, বিলটি পুনঃখননের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিবছর ১৭০ কোটি টাকা মূল্যের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের আশা করছে। বিলটি ঘিরে এরই মধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, খনন করা বিল ও খালের মাটি দ্বারা ১০ ফুট চওড়া পাকা গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। পুনঃখননের প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করা গেলে এলাকায় বিশাল জলাধারের সৃষ্টি হবে। যার ফলে প্রচুর মৎস্য উৎপাদন ও হাঁস পালন হবে। যা দেশের মাছ, মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণসহ স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। পরিবেশের উন্নতির জন্য নির্মিত গ্রামীণ সড়ক, খাল ও বিলের পাড়ে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছ রোপণ করা সম্ভব।
তিনি আরও জানান, বিল পুনঃখননের পর বিলের চারিদিকে বিভিন্ন প্রকারের পরিবেশ বান্ধব বৃক্ষরোপণ করাসহ শিশুদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন খেলাধুলার স্থান তৈরি করা হলে এলাকাটি স্থানীয় জনসাধারণের জন্য একটি বিশুদ্ধ ও সুস্থ বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। বিলটি পুনঃখননে সংরক্ষিত পানি সেচকাজে ব্যবহারের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও বৃদ্ধি পাবে। বিলটি পুনঃখননের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান জানান, রক্তদহ বিলের রতনডারা খালের উপর গড়ে তোলা হয়েছে পাখি পল্লী ও মৎস্য অভয়াশ্রম। বর্ষা মৌসুমে পাখি পল্লীর সঙ্গে রক্তদহ বিলের দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের আগমন ঘটে। যদি রক্তদহ বিলটি পুনঃখনন করা হয়; এই বিলকে ঘিরে পর্যটনের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। এছাড়া পাখি পল্লীর সার্বিক উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার অধিকাংশ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজও চলমান রয়েছে।



