বিজ্ঞাপন
বিশ্ব

পরিস্থিতি ‘খুবই গুরুতর’, গ্রিনল্যান্ডের ডেনমার্ক বেছে নেওয়ায় পর বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের অব্যাহত হুমকির মুখে দ্বীপটির প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার চেয়ে ডেনমার্কের ইউনিয়নে থাকতেই বেশি পছন্দ করবেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নিলসেন এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হয়, তবে তারা ডেনমার্ককেই বেছে নেবেন। ট্রাম্পের এমন দখলদারিত্বের প্রচেষ্টাকে তিনি ‘সম্পূর্ণ শিষ্টাচারবহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ও রুক্ষ ভাষা ব্যবহার করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এটি তাদের সমস্যা। আমি তাদের সঙ্গে একমত নই। আমি জানি না সে (নিলসেন) কে, তবে এটি তার জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি অর্থনৈতিক মাধ্যম হোক বা সামরিক শক্তি—যেকোনোভাবেই গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে অনড় রয়েছেন। ওয়াশিংটনে বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে এই উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হবে।

গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বীপটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিতর্ক থাকলেও জনমত জরিপ অনুযায়ী, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ধারণার ঘোর বিরোধী। গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও দেখা গেছে যে, চারভাগের তিনভাগ ভোটারই স্বাধীনতার দিকে ধীরগতির পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

নিলসেন জানান, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে স্বাধীনতার আলোচনা পাশে রেখে ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে মৌলিক নীতিগুলো রক্ষা করা যায়। গ্রিনল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত মূলত ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাবের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষা কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা মোকাবিলায় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একা নয়, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির নেতৃত্বে একদল ইউরোপীয় দেশও ময়দানে নেমেছে। তারা গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যাতে ট্রাম্পকে বোঝানো যায় যে মহাদেশটি আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সিরিয়াস।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস মঙ্গলবার জানিয়েছেন, উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা কেবল বহুপাক্ষিক ও যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব। জার্মানি ও ইউরোপীয় মিত্ররা আশা করছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকটের একটি সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button