বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ

‘ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, তার পথরেখা নির্ধারণ করবে গণভোট’

গণভোট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথরেখা নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

তিনি বলেন, অন্যান্য নির্বাচনে যেমন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হয়, গণভোট তেমন নয়। গণভোট হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, তার পথরেখা নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রের কাঠামো ও শাসনব্যবস্থার বিষয়ে সরাসরি মত দেওয়ার সুযোগ পান, যা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বরিশাল নগরীর বেলস্ পার্কে আয়োজিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

আলী রীয়াজ বলেন, অনেকে বলেন—গণভোটের মার্কা কি? উত্তর হচ্ছে—গণভোটের মার্কা টিকচিহ্ন। ঐটাই গণভোটের মার্কা, যদি আপনি হ্যাঁ বলতে চান তাহলে ঐ মার্কায় ভোট দিতে হবে। আপনাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য, বিশ্বাস ও ভিন্ন দল থাকবে—সেটার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাদা রঙের ব্যালট। আর গোলাপি রঙের ব্যালটটি হচ্ছে গণভোটের।

 ছবি: ইত্তেফাক

তিনি বলেন, ‘গত ১৬ বছরে দেশ যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, তা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া দেশ চলতে পারে না। এই সুযোগ হঠাৎ করে আসেনি; দেশের তরুণেরা প্রাণপণ লড়াই করে এই সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আগে প্রধানমন্ত্রী কত দিন ক্ষমতায় থাকবেন, সে বিষয়ে কার্যত কোনো সীমা ছিল না। নতুন ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী দুবারের বেশি থাকতে পারবেন না—এমন বিধান রাখা হয়েছে।’

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অতিতে যে সমস্ত গণভোট হয়েছে, তাতে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পরে সম্মতি চাওয়া হয়েছে। এবার আগে সম্মতি চাওয়া হচ্ছে পরে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে—এটা হচ্ছে পার্থক্য।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে আসতে না পারে, সে জন্যই গণভোট। বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোতে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে, যার সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিস্ট তৈরি হয়েছে। মানুষ ইমামদের বিশ্বাস করে। আপনারা গণভোটের প্রচার করলে মানুষ তা শুনবে।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনজুর মোরশেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ও ইমাম সমিতির সভাপতি আবদুল হাই নিজামী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button