সীমান্তের শূন্যরেখায় আনা হলো মায়ের মরদেহ, কাঁটাতার ডিঙিয়ে দেখতে এলো মেয়ে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জের কিরণগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশি নারীর মরদেহ দেখার সুযোগ পেয়েছেন ভারতীয় স্বজনরা। শূন্যরেখায় এসে মাকে শেষবারের দেখেন মৃতের মেয়ে। এসময় সীমান্ত এলাকায় আবেগঘন মুহূর্ত সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার সীমান্তে কিরণগঞ্জ বিওপি এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস-এর কাছে শূন্য লাইনে বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহ ভারতীয় স্বজনদের দেখানোর সুযোগ দেওয়া হয়।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর আগে সীমান্তের ওই পাড়ে বিয়ে হয় মালেকা বেগমের। তারপর থেকে ভারতেই বসবাস করছেন তিনি। সর্বশেষ গত সোমবার রাতে মালেকা বেগমের মা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা তারা বানুর (৭৫) মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ভারতে থাকা মালেকা বেগম বিএসএফের মাধ্যমে মরদেহ দেখার আ
বেদন করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কাছে। পরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বিজিবির উপস্থিতিতে শিবগঞ্জ সীমান্তের কিরণগঞ্জ বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস এর শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে স্বজনদের মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এসময় শূন্যরেখায় শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে মালেকা বেগম। শেষ বারের মতো মাকে দেখার সুযোগ দেওয়ায় বিজিবি ও বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মালেকা বেগম ও তার ভারতীয় স্বজনরা।
মালেকা বেগম বলেন, শেষবারের মতো মাকে দেখার সুযোগ দেওয়ায় বিজিবি ও বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সোমবার মায়ের মৃত্যুর পর বিজিবির কাছে আবেদন করেছিলাম। মঙ্গলবার সকালে মাকে শেষবারের মতো দেখা সুযোগ করে দেয় বিজিবি-বিএসএফ।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন, মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মৃতের মেয়ে মোছা. মালেকা বেগমসহ মালদা জেলার আরও কয়েকজন আত্মীয় বিএসএফের মাধ্যমে বিজিবির কাছে মরদেহ দেখার অনুমতি চাইলে বিজিবি তাৎক্ষণিক মানবিক বিবেচনায় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজিবি। বিজিবি সবসময় যেকোনো মানবিক প্রয়োজনে সহানুভূতিশীল ভূমিকা পালন করে।



