ডিসি-ওসির সামনেই সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় নির্মাণশ্রমিকের মামলা

বরিশালের মুলাদীতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সামনেই আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মুলাদী থানার সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার রাতে সেতুর নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মৃধা বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলাটি করেন।
এতে অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা, অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
মুলাদী থানা পুলিশ জানায়, মামলায় বাদী উল্লেখ করেছেন, গত ৬ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের উপস্থিতিতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সেতু উদ্বোধনের কথা ছিল উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ডিসি মো. খায়রুল আলম সুমন, ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার, মুলাদী থানার ওসি (তৎকালীন) মো. সফিকুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা সেতুর পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্য কর্মকর্তা আসার আগেই সকাল ১০
টার দিকে নাজিরপুর ও রামারপোল গ্রামের তিন শতাধিক লোক সেতুর পূর্বপাড় থেকে মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ভেঙে ফেলেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনেই সভামঞ্চ ও চেয়ার, ভাঙচুর করে লালগালিচা নিয়ে যান। এতে অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায় এবং সরকারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। নাম, ঠিকানা সংগ্রহ করতে না পারায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানান বাদী মেহেদী হাসান।
মুলাদী থানার ওসি আরাফাত জাহান চৌধুরী বলেন, সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর সকালে ডিসি, ইউএনও এবং ওসির সামনেই আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছিলেন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৬১৯ মিটার দৈর্ঘ্যর ‘সৌহার্দ্য সেতু’ নির্মাণ কাজ চলছে।
কাজ চলমান অবস্থায় এটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘৩৬ জুলাই সেতু’। নামকরণের পর শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেতুটি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব এমদাদুল হক মজনু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকেও দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধরা।



