ভূখণ্ড থেকে কম্বোডীয় বাহিনীকে সরিয়ে দিচ্ছে থাইল্যান্ড

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার পর নিজেদের ভূখণ্ড থেকে কম্বোডীয় বাহিনীকে সরিয়ে দিতে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) পদক্ষেপ নিচ্ছে থাইল্যান্ড।
এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যকার অস্ত্রবিরতি ভেঙে গেছে, যা গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হয়েছিল এবং পাঁচ দিনের লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়েছিল।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর সংঘর্ষে তাদের আরও দুই বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এতে নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর থেকে কম্বোডিয়ায় নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৬-এ দাঁড়িয়েছে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক থাই সেনাও নিহত হয়েছেন।
আজ সকালে এক বিবৃতিতে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী বলেছে, থাই উপকূলীয় প্রদেশ ত্রাতের ভেতর কম্বোডীয় বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তাদের সরিয়ে দিতে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে বলে নৌবাহিনী জানালেও এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী আরও বলেছে, কম্বোডীয় বাহিনী সীমান্ত এলাকায় তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, স্নাইপার ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন করছে, বাংকার শক্তিশালী করছে এবং নতুন পরিখা খনন করছে। নৌবাহিনী এই কর্মকাণ্ডগুলোকে থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি ও গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে। এদিকে, উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত সোমবার রাতে বলেন, ‘থাইল্যান্ড যেন নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের অজুহাতে বেসামরিক গ্রামগুলোর ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ না করে।’ এর আগে কম্বোডিয়া বলেছিল, তাদের নিজেদের বাহিনী টানা হামলার শিকার হলেও পাল্টা হামলা চালায়নি। গত জুলাইয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে টানা পাঁচ দিন ধরে যে সংঘর্ষ চলেছিল, গতকালের সংঘর্ষের মাত্রা ছিল তার পর সবচেয়ে তীব্র।
ওই সংঘাতে কমপক্ষে ৪৮ জন নিহত এবং ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এই সংঘর্ষের জেরে ইতিমধ্যে, থাইল্যান্ড তাদের সীমান্তবর্তী পাঁচটি প্রদেশ থেকে ৪ লাখ ৩৮ হাজার বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষও বলেছে, লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। থাই সেনাবাহিনী বলেছে, তাদের ১৮ সেনা আহত হয়েছেন আর কম্বোডীয় সরকার বলেছে, দেশটির ৯ বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে সীমানার অনির্ধারিত অংশগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিরোধ চলছে।
গত মে মাসে সংঘর্ষে এক কম্বোডীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের উত্তেজনা বেড়ে যায়, যার ফলে সীমান্তে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করা হয় এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
সূত্র: রয়টার্স



