নরসিংদীতে ভূমিকম্পে মাটির ঘর ধসে বৃদ্ধ নিহত

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ভূমিকম্পের সময় মাটির ঘরের ধসে পড়ে কাজম আলী ভূঁইয়া (৭৫) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত কাজম আলী ওই গ্রামের প্রয়াত বশর উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় কাজম আলী তাঁর দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে মাটির ঘরে অবস্থান করছিলেন। ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে নাতি-নাতনি দ্রুত বের হয়ে গেলেও তিনি ঘর থেকে বের হতে পারেননি। দেয়াল ধসে পড়লে আহত কাজম আলীকে উদ্ধার করে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত কাজম আলীর চাচাতো ভাই আউয়াল মিয়া জানিয়েছেন, বাদ মাগরিব বাড়ির মসজিদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।
পলাশ থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। দুই নাতি-নাতনি বের হতে পারলেও তিনি বাঁচতে পারেননি। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।’
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মার্কিন ইউএসজিএস জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৫।
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত খোলা জায়গা ও সড়কে বের হন। নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও জেলা হাসপাতালে ৬২ জন গুরুতর বা সামান্য আহত, অজ্ঞান বা প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আজকের ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়। পুরান ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। ঢাকা, নরসিংদী ও গাজীপুরে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।



