বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশহেডলাইন

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ৪০

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিগত ১৪ মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ জন। এ ঘটনা মাসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে- ৯টি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচটি, আর গত তিন মাসে ঘটেছে ১১টি। এ ছাড়াও এই সময়কালে
গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে ১৫৩ জনের।

সর্বাধিক ঘটেছে সেপ্টেম্বরে ১৮টি। যা গত বছরের একই মাসে ছিল ১৭টি। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৯ই আগস্ট থেকে এ বছরের ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে অধিকার।

গত বছরের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ই আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। অধিকারের প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালটাই গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম মাসে অর্থাৎ আগস্টে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

বিজ্ঞাপন

সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নয়জন এবং পরবর্তী তিন মাসে একজন করে মারা যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাঁচজন, ফেব্রুয়ারিতে তিনজন মারা যান।

মার্চ ও এপ্রিল মাসে মারা যান একজন করে। মে মাসে চারজন, জুনে তিনজন, জুলাইতে ছয়জন, আগস্টে তিন ও সেপ্টেম্বরে আরও দুইজন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এই ৪০ জনের মধ্যে গুলিতে ১৯ জন, নির্যাতনে ১৪ জন এবং গণপিটুনিতে মারা যান সাতজন।

অধিকারের পরিসংখ্যানে বলা হয়, গত ১৪ মাসে গণপিটুনির ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে এ বছরের সেপ্টেম্বরে। যার সংখ্যা ১৮টি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এমন ঘটনা ঘটেছে ১৭টি। আর এ বছরের শেষ তিন মাসে এমন ঘটনার সংখ্যা ৪৫টি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ৭ হাজার ৯৭৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার হিসাব দিয়েছে অধিকার। এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে চলতি বছরের মার্চে, ৯৪৪টি।

৮৬২টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে গত বছরের সেপ্টেম্বরে। গত বছরের আগস্টে সংখ্যাটি ছিল ৫০০। ৭৯৮টি ঘটনা ঘটে এ বছরের এপ্রিলে। এ বছরের জুনে ঘটে ৫১০টি, জুলাইতে ৫৯৮ ও আগস্টে ঘটে ৬৭০টি।

১৪ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২৮১ জন। সবচেয়ে বেশি ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এ বছরের মার্চে ৪৪ জন, এরপর এক মাসে বেশি নিহত হন গত বছরের আগস্টে ৩৩ জন।

অধিকারের পরিসংখ্যান অনুসারে, এ সময়কালে সাংবাদিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। যার সংখ্যা ২৪২টি। সবচেয়ে বেশি হয়েছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে, ৩৪টি। এ ছাড়া এ বছরের মার্চে ৩০টি, মে মাসে ২৮টি, আগস্টে ২৬টি ও ফেব্রুয়ারিতে ২৫টি ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন সাংবাদিকরা।

অধিকারের তথ্যে দেখানো হয়েছে, বিএসএফ কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘন করার ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৪০২টি। এরমধ্যে বাংলাদেশি নিহত হয়েছে মোট ৩৫ জন, আহত হয়েছে ৩৪ জন ও পুশইন ২ হাজার ৩৩৩ জন।

অধিকারের প্রতিবেদনে আরও দেখানো হয়েছে, কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা ৮৮টি। মৃত্যুদণ্ডাদেশের ঘটনা ২৪২টি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঘটা ধর্ষণের পরিসংখ্যানও অধিকারের রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম পাঁচ মাসে ধর্ষণের কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের ৬৮৭টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যার মধ্যে মার্চে সর্বোচ্চ, ১৬৭টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এপ্রিলে, ৮৯টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Articles

Back to top button